| বঙ্গাব্দ

বাণিজ্যের আড়ালে ৭৫% অর্থ পাচার, বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার: বিআইবিএম গবেষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-07-2025 ইং
  • 4501031 বার পঠিত
বাণিজ্যের আড়ালে ৭৫% অর্থ পাচার, বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার: বিআইবিএম গবেষণা
ছবির ক্যাপশন: বিআইবিএম গবেষণা

বাণিজ্যের আড়ালেই ৭৫% অর্থপাচার, বছরে গড় পাচার ১৬ বিলিয়ন ডলার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটে বাণিজ্যের আড়ালে। আমদানি-রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা, মূল্য হেরফের ও কাগজে-কলমে প্রকল্পের পেছনে লুকিয়ে থাকে হাজার কোটি টাকার গোপন স্রোত।

এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত সাম্প্রতিক গবেষণায়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের শিক্ষক ড. আহসান হাবিব

অর্থপাচারের চিত্র: গবেষণা ও বাস্তবতা

গবেষণাপত্র অনুসারে—

  • ২০১৫ সালের আইন সংশোধনের পর শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ৯৫টি অর্থপাচারের মামলা তদন্ত করেছে। সবকটিই ছিল বাণিজ্যভিত্তিক, যার মোট পরিমাণ ৩২০১ কোটি টাকা।

  • ২০০৯-২০১৮ সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা জিডিপির ২%।

  • গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (GFI) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন বলছে, ২০০৯-২০২৩ সময়ে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা জিডিপির ৩.৪%

কৌশল কী?

মূলত নিম্নলিখিত উপায়ে অর্থ পাচার হয়:

  • Under-invoicing/Over-invoicing: আমদানির সময় পণ্যের দাম কম দেখানো (Under-invoicing), রপ্তানির সময় বেশি দাম দেখানো (Over-invoicing)।

  • Multiple invoicing: একই চালান বারবার ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ তোলা।

  • Phantom shipments: বাস্তবে পণ্য না পাঠিয়ে কাগজে চালান তৈরি করা।

বক্তারা কী বললেন?

নূরুন নাহার, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক:

“বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকা পাচার অনেক সময় চোখে ধুলা দেওয়ার মতো। বাইরের চেহারা ঠিক থাকলেও ভেতরে থাকে অন্য খেলা। শুধু নিয়ম মেনে চললেই তাদের ধরা যাবে না, বুদ্ধি খাটাতে হবে।”

ড. আহসান হাবিব, গবেষক:

“বাণিজ্য চ্যানেল সবচেয়ে বেশি লোভনীয়, কারণ এতে বড় অঙ্কের লেনদেন সম্ভব। ফলে অপরাধীরাও এই পথেই বেশি আগ্রহী থাকে।”

ফারুক এম আহমেদ, অধ্যাপক, বিআইবিএম:

“আমরা এখনো বাণিজ্য অর্থায়নের ঝুঁকি বিশ্লেষণকে যথাযথভাবে গ্রহণ করছি না। ফলে অর্থ পাচারের সুযোগ থেকে যাচ্ছে।”

ব্যাংকিং সিস্টেমে দুর্বলতা

  • ১০০% ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেন তথ্যভান্ডার রয়েছে

  • ৯৫% ব্যাংকের নিষিদ্ধ তালিকা যাচাইয়ের ব্যবস্থা আছে

  • কিন্তু শুধুমাত্র ৫০% ব্যাংক মূল্য যাচাই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে

এটি বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার শনাক্তে একটি বড় ফাঁকফোকর।

আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত

বাংলাদেশ শুধু নয়—ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেও বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার একটি বড় সমস্যা। GFI এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতিবছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাচার হয় শুধুই ট্রেড মিসইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে।

কী করতে হবে?

  1. AI ভিত্তিক ইনভয়েস অ্যানালাইসিস চালু করা

  2. রিয়েল-টাইম কাস্টমস ও ব্যাংক ডেটা লিংক

  3. মূল্য যাচাই ইউনিট শক্তিশালী করা

  4. ব্যাংকার ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

  5. G2G অডিট ট্র্যাকিং চালু করা

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency